Full width home advertisement

Post Page Advertisement [Top]

লেখা: সাইফুল ইসলাম
-- স্বর্ণা ও স্বর্ণা উঠো না মা সেহরির সময় হয়ে যাচ্ছে, রান্না-বান্না করতে হবে তো।
-- মা ঘুমাইতে দিন তো আমাকে। এতো আগে আগে আমার উঠতে ভালো লাগে না। আপনি ভাবীকে ডাকতে পারেন না?
-- থাক থাক তোমরা ঘুমাও মা। আমি তো বান্দীগিরি খাটার জন্য আছিই! আমার পোড়া কপাল এই বুড়া বয়সেও রান্না-বান্না করতে হয়।
-- দেখেছ দেখেছ তোমার মা কেমন কথাটা বললো আমাকে।
-- চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়োতো মা তো চলেই গেছে।

রাহেলা খাতুন। স্বামী মারা গেছে আরো বছর চারেক আগে। একমাত্র মেয়ে রুপার বিয়ে হয়ে গেছে স্বামী সন্তান নিয়ে বিদেশে থাকে। তারপর বড় ছেলে নাবিল প্রেম করে বিয়ে করেছে। শশুরের তদবিরে একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকরী করে। স্ত্রীর কথায় উঠে আর বসে। আর ওর স্ত্রী সুজাতা একটা রেডিওর আর জে। নাবিল ও সুজাতার একমাত্র ছেলে রাহাত। রাহাত রাতের বেলা রাহেলার সাথেই থাকে। আর ছোট ছেলে আবির বিয়ে করেছে এক বছর হয়নি। স্বর্ণা তার একমাত্র আদরের স্ত্রী। স্বর্ণা একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করছে।
আবির নিজের বউয়ের প্রতি খুবই কেয়ারিং। বউয়ের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায় যদি এজন্য রান্নাঘরের আশেপাশে পর্যন্ত আসতে দেয়না।

আজকে হাঁটুর ব্যাথাটা আবার বেড়েছে। এই বয়সে আর ভালো হবার কথাও না। কোনদিন যে পঙ্গু হয়ে বিছানায় পরে থাকবো কে জানে?
কাজের মেয়েটাও চলে গেল, ওর নাকি গার্মেন্টসে চাকরি হয়েছে। রাহেলা আপন মনে বিরবির করতে করতে রান্না বসাতে গেল।
রান্না করতে গিয়ে হঠাৎ একটা পাতিল হাত থেকে পরে যায় পাতিলের শব্দে সুজাতার ঘুম ভেঙ্গে গেল।

-- এই উঠো, কি হলো উঠছো না কেন?
-- কি হলো ডাকছ কেন? সেহরির সময় হয়ে গেছে নাকি?
-- সেহরির সময় হতে এখনও আরো দুই ঘণ্টা বাকি।
-- তাহলে এখন ডাকছো কেন?
-- তোমার মাকে গিয়ে বল শব্দ যেন না করে। এই রমজান মাস আসলে একটা দিন ঠিকমতো ঘুমাতেও পারিনা।
-- রান্না করতে গেলে তো একটু আধটু শব্দ হবেই।
-- না একটু আধটু শব্দ না। আসলে এসব শব্দ তোমার মা ইচ্ছে করেই করেন। যাতে আমি ঠিকমতো ঘুমাতে না পারি। যাও তোমার মাকে গিয়ে বল শব্দ যেন না করে।
-- তুমি যাওনা ।
-- কি বললে? আমি এখন ঘুম থেকে উঠে যাবো?
-- ঠিক আছে তোমার যাওয়া লাগবে না আমিই যাচ্ছি।

নাবিল রান্না ঘরে গেল।

-- মা তুমি একটু শব্দ না করে কাজ করতে পারো না?
-- বাবারে হাত থেকে পরে গিয়েছিল।
-- সাবধানে দেখে কাজ করো। সুজাতা ঘুমাচ্ছে।
-- বাবা বড় বৌমা কি জেগে আছে ?
-- তোমার শব্দে বেচারির ঘুম ভেঙ্গে গেছে। কেন কি দরকার?
-- একটু আসতে বলবি আমার পায়ের ব্যথাটা বেড়েছে, দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে।
-- কেন তোমার ছোট বৌমা কি করে? রান্না ঘরে আসতে পারেনা? ওর তো সারাদিন কোন কাজ থাকে না। সুজাতার সকালে রেডিওতে শো আছে। তোমার কষ্ট হলে তোমার ছোট বৌমাকে ডাক।
-- থাক বাবা তোদের কারো কোন সাহায্য করতে হবেনা। আমি একাই করতে পারবো। যতদিন বেঁচে আছি বান্দীগিরি করেই যাই।

নাবিল নিজের রুমে চলে আসলো।

-- বাবু তুমি এবার শান্তিতে ঘুমাও। মাকে বলে এসেছি যেন শব্দ না করে।

রাহেলা যতটুকু সম্ভব শব্দ কম করে, পায়ের ব্যাথা নিয়ে একা একাই রান্না শেষ করলো। রান্না শেষ করে সবাইকে সেহরি খাওয়ার জন্য ডাকলো। সবাই ডাইনিং টেবিলে খেতে বসলো। নাবিল মাছ ভাজা মুখে দিয়েই বলে উঠলো‌,

-- মা এটা কি রকম ‌মাছ ভেজেছো ?
-- কেন কি হয়েছে?
-- লবণই তো দাওনি।
-- বাবারে মনে ছিলো না।
-- দিন দিন তোমার ভুলে যাওয়ার পরিমাণ বেড়েই যাচ্ছে।

আবির মাকে ডেকে বলল,

-- মা আমাকে আরেকটু মাংশ দাও তো। মাংশটা দারুন হয়েছে। তবে আরেকটু ঝাল হলে ভালো হতো। এখনও ঠিক আছে।
-- বড় বৌমা খাচ্ছ না কেন?
-- কি করে খাবো? মাংশে মনে হচ্ছে মরিচ ঢেলে দিয়েছেন ঝালে আমিতো মুখে দিতেই পারছিনা।
-- কি বলো‌ বৌমা আবির বলছে ঝাল আরেকটু হলে ভালো হতো আর তুমি বলছো বেশি! বৌমা মনে হয় ঠিকঠাক আন্দাজ করতে পারিনি।
-- কি বলেন‌ মা এতো বয়স হয়েছে এখনো মরিচ আন্দাজ করতে পারেন না? নাকি ইচ্ছা করেই ঝাল দিয়েছেন যাতে আমি খেতে না পারি?
-- ছিঃ বৌমা তুমি এসব কেমন কথা বলছো?

নাবিল নিজের বৌয়ের পক্ষ নিলো।

-- মা তুমি তো জানোই সুজাতা মরিচ একদম খেতেই পারেনা।
-- বাবারে চোখে ভালোমতো দেখতে পারিনি।
-- ঠিক আছে কাল থেকে ঠিকঠাক রান্না কইরো।

-- ছোট বৌমা তুমি খাচ্ছ না কেন?
-- ভাবীর কথা শুনে আমিও তো মাংশ নিতে ভয় পাচ্ছি। মা আপনি বরং আমাকে একটা রুই মাছ ভাজা দিন।
-- ওহ্ হো আমিতো রুই মাছ ভাঁজতে একদম ভুলেই গেছি। মা আজকে কোনভাবে খেয়ে উঠো। কাল ভেজে দিবো।

এবার আবির তার বৌয়ের পক্ষ নিয়ে কথা বলে উঠলো।

-- মা তোমার হয়েছে টা কি? এই সামান্য কয়টা তরকারি ‌রান্না করতে এতো‌ ভুল হয় কেমন করে?
-- বাবারে বয়স হয়েছে তো।
-- তোমার চেয়ে বয়স্ক মহিলারা তিন চারটা মানুষের বাসায় কাজ করে খায়। তোমার তো মাত্র একটু রান্না করতে হয়। তাও কাজের মেয়েটা চলে গেছে বলে।
-- বাবারে আমি বুড়া মানুষ এখন আর আগের মতো পারিনা।

এবার নাবিল কথা বলে উঠলো।

-- না পারলে বলে দাও আমরা অন্য ব্যবস্থা করি। তুমি শুধু বসে বসে খাবে।
-- নারে বাবা তোদের সংসারে আমি আর বসে বসে খেতে পারবোনা।
কাল থেকে আর ভুল হবেনা।

সবাই যার যার মতো খেয়ে নিজেদের রুমে চলে গেল। রাহেলা দেখে সব তরকারি শেষ। রাহেলা কড়াই থেকে বেচে যাওয়া ঝুল মুছে মাত্র কয়েক লোকমা মুখে দেওয়ার পরই মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা আসলো সেহরির সময় শেষ। রাহেলা আর খেতে পারলো না।
হাড়ি-পাতিল, বাসন-কোসন পরিষ্কার করে রাহেলা একটু ঘুমালো। সকাল হতেই রাহাতের জন্য আবার রান্না করে রাহাতকে খাইয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি করে দিল

স্বর্ণা সারাদিন রুমে বসে বই পড়ছে। আর সুজাতা দুপুরে বাইরে থেকে ফিরেই ঘুমিয়ে পড়লো। ইফতারের সবকিছু রেডি হলে তারপর ঘুম থেকে উঠবে। সুজাতা ইফতারের কোনোকিছু তৈরি করতেও আসবে না। আর সুজাতার সাথে পাল্লা দিয়ে স্বর্ণাও কোন কাজে হাত দিবেনা। তাই রাহেলা একা একাই সমস্ত ইফতারি তৈরি করতে লাগলো। চুলা থেকে তেলের কড়াই নামাতে গিয়ে হঠাৎ হাত ফসকে গরম তেল রাহেলার পায়ে পরে গেল। রাহেলা চিৎকার দিয়ে উঠল। সুজাতা ও স্বর্ণা দৌড়ে আসলো। এদিকে নাবিল অফিস থেকে এসে মাত্র বাথরুমে ঢুকেছে। আর আবির অফিস থেকে এখনো বাসায় ফিরে নি।
স্বর্ণা এসে রাহেলাকে সাহায্য করার বদলে বললো,

-- মা আপনি একটু সাবধানে কাজ করতে পারেন না। ইফতারের সময় হয়ে গেছে এখন বাকি ইফতারি কে তৈরি করবে?
সুজাতা বললো,
-- ইশ্ কতগুলো তেল পড়ে গেলো। এতো দামের তেল! অবশ্য তাতে আপনার কি? টাকা তো আপনার থেকে যায়না।
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে নাবিল বাথরুম থেকে বের হয়ে চলে আসলো। এরমধ্যে আবার আবিরও ফিরে এসেছে কলিং বেল চাপতে লাগলো।
নাবিল সুজাতাকে জিজ্ঞেস করলো,
-- কি হয়েছে? চিৎকার-চেচামেচি কিসের?
-- তোমার মা সব তেল ফেলে দিয়েছে।
-- কি এতো দামের তেল কিভাবে ফেললো?
-- তা আমাকে জিজ্ঞেস না করে তোমার মাকে জিজ্ঞেস করো।
আবির কাছে এসে নাবিলকে জিজ্ঞেস করল,
-- ভাইয়া মার নাকি পায়ে গরম তেল পরেছে?

সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলছে এদিকে রাহেলার যে পা পুড়ে গেছে সেদিকে কারো লক্ষ্য নেই।
হঠাৎ রাহাত বাসায় থাকা পুড়ে যাওয়ার ক্রিম এনে রাহেলার পায়ে লাগিয়ে দিলো। রাহেলা নাতিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো। সুজাতা এসে তাড়াতাড়ি রাহাতকে রুমে নিয়ে চলে গেল, রুমে গিয়ে রাহাতকে বকা দিতে লাগলো। আবিরও স্বর্ণাকে নিয়ে নিজের রুমে চলে গেল।

রাহেলা অনেক কষ্ট করে বাকি ইফতার তৈরি করে টেবিলে সাজিয়ে দিয়ে নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো। ইফতারের সময় নাবিল রাহাতকে দিয়ে এক গ্লাস পানি আর কিছু ইফতারি রাহেলার জন্য রুমে পাঠালো। ইফতারি শেষ করে আবার যে যার মত নিজেদের রুমে চলে যায় এর মধ্যে কেউ আর রাহেলার কোন খবর নিল না।
ঘন্টাখানেক পর রাহেলা রুম থেকে বের হলো এঠো থালা-বাসন পরিষ্কার করার জন্য। আর তখনই আবির ও স্বর্ণাকে নাবিলের রুমে ঢুকতে দেখল রাহেলা। রাহেলা চুপি চুপি নাবিলের রুমের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।

-- আবির দেখ, মা আজকে পায়ে তেল ফেলে পা পুড়েছে কাল এর চেয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন আমাদেরকেই সব খরচ দিতে হবে। উনার আদরের মেয়ে তো স্বামী নিয়ে বিদেশে সুখেই আছে।

সুজাতা বলে উঠলো,
-- কাল যদি বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটে তখন মানুষজন বলবে দুই বউ শাশুড়িকে দিয়ে কাজকর্ম করায় তাই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। না বাবা আমি আর তোমার মাকে এ বাড়িতে রাখতে পারব না।
-- আবির তোর ভাবি কিন্তু ঠিকই বলেছে। আর তাই আমি ও তোর ভাবী মিলে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাকে একটা বিদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেব। এখন তোরা কি বলিস?
-- ভাইয়া আমারও মনে হয় মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়াটাই ভালো হবে। শুধু শুধু একটা রুম মা দখল করে আছে সাবলেট দিলে মিনিমাম ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। বাড়তি কিছু আয় হবে। মা এখন আমাদের জন্য একটা বোঝা!

স্বর্ণা বলে উঠলো,
-- ভাবীতো অফিসে চলে যায় আমি সারাদিন বাসায় থাকি। যদি মায়ের কিছু হয়ে যায় পরে সব দোষ এসে আমার উপর পড়বে। এরচেয়ে মাকে বরং বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দাও। এটাই ভালো হবে।

রাহেলা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সবকিছু শুনতে পেরে কাঁদতে কাঁদতে নিজের রুমে চলে গেল। রাহেলা রুমে এসে একটা চিঠি লিখলো তারপর বাসা থেকে বের হয়ে গেল। ওরা সবাই আলোচনা শেষ করে রাহেলার রুমে আসলো ওদের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। এসে দেখে রাহেলা রুমে নাই, বিছানায় একটা কাগজ পড়ে আছে। নাবিল কাগজটি হাতে নিয়ে পড়তে লাগলো।

বাবা নাবিল ও আবির,

তোরা দুই ভাই তখন খুব ছোট। আর রুপা তখনও দোলনায়। তোর বাবা একটা ছোট সরকারি চাকরি করে। তোরা পিটাপিটি দুই ভাই সারাদিন দুষ্টুমি করতি, নিজেদের মধ্যে মারামারি করতি। তোরা দুষ্টুমি করে ঘরের ভেতরে কোন কাঁচের জিনিস আস্ত রাখতি না। তোর বাবাকে প্রতি মাসে নতুন নতুন বাসন আর গ্লাস কিনতে হতো। কিন্তু তারপরও আমি তোদেরকে কখনো বকা দেই নি।
আর আজকে তোর মায়ের হাত ফসকে একটু তেল পরে যায়। তো মায়ের পা পুড়ে যাওয়া থেকে তোর কাছে তেলটা অনেক বেশি দামী হয়ে গেছে।

বাবা, সেহেরির সময় যখন আমি উঠে রান্নাবান্না করতাম তখন তোরাও উঠে পড়তি সেহরি খাওয়ার জন্য। যদিও তখন তোদের রোজা রাখার বয়স ছিল না। ভোর রাতে তখন উঠা ছিল তোদের জন্য খুবই আনন্দের। তুই আর আবির কেউ বাসন ধুয়ে আনতি কিংবা আমি তরকারি বেড়ে দিতাম তোরা রান্নাঘর থেকে তরকারির বাটি এনে টেবিলে রাখতি তারপর আমরা সবাই একসাথে বসে সেহরি খেতাম। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই তোরা আবার ভাত খেয়ে ফেলতি আর আমি বলতাম তোদের একটা রোজা হয়ে গেছে।
আর এখন দেখ সেহেরির সময় আমার শব্দে তোদের ও তোদের স্ত্রীদের ঘুমের নাকি সমস্যা হয়। এখন আমি সেহরিতে কিছু খেতে পাই কিনা তোরা তা কোনদিন জানিসও না।

যখন ইফতারি বানাতাম তখন বানানোর সময়ই তুই ও আবির দুই ভাই রান্নাঘর থেকে বড়া, বেগুনি, চপ খাওয়া শুরু করে দিতি। এরপর তোরা দুই ভাই মিলে শরবত বানিয়ে আমাকে সাহায্য করতি।
বাবা আবির তোর মনে পড়ে? তুই বলতি ইফতারি খাওয়ালে একটা রোজার সওয়াব পাওয়া যায় তাই তুই নিজ হাতে আমাকে ইফতারি খাইয়ে দিতি। তোর দেখাদেখি তখন নাবিল তোর বাবাকে খাইয়ে দিতো।
এখন তোরা যে যার মত ইফতারি করে যার যার রুমে চলে যাস। মা ইফতারি করেছে কিনা একটাবার খোঁজও নিস না।

তোর বাবা যখন রিটায়ার করলো তখন যা টাকা পেল সে টাকাটা দিয়ে তোর বাবা এই ফ্ল্যাট কিনে। তোর বাবা বলেছিল ফ্ল্যাটটা আমার নামে করে দিতে। আমি বললাম আমার একমাত্র মেয়ে বিদেশে থাকে, সুখে আছে, ফ্ল্যাট তুমি আমার দুই ছেলের নামে করে দাও। আমি আর কয়দিনই বা বাঁচব।
আর আজকে তোরা ভাবছিস আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিলে তোদের কিছু বাড়তি আয় হবে।

আর বড় ও ছোট বৌমা আমি তোমাদের সবসময় মেয়ের মতো আপন করে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোমরা কখনো আমাকে মা ভাবতে পারো নি। বড় বৌমা তুমিও একজন মা আর ছোট বৌমা তুমিও একদিন মা হবে। একদিন তোমাদেরও বয়স হবে ঘরে ছেলের বৌ আসবে। আমি দোয়া করি যেন তোমাদের ভাগ্য আমার মতো না হয়।

কোন মা-বাবা চায় না তাদের ছেলেমেয়েরা কষ্টে থাকুক, খারাপ থাকুক। নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে পর্যন্ত চেষ্টা করে নিজের ছেলে-মেয়েদের ভালো রাখার জন্য।
আমি যেখানেই থাকি তোরা সবসময় সুস্থ থাকিস, ভালো থাকিস, সুখে থাকিস সেই দোয়া করি।

ইতি,
তোদের বোঝা হয়ে যাওয়া মা।

চিঠি পড়ে নাবিল হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো তারপর মা মা ডাকতে ডাকতে দৌড়ে রাস্তায় বের হয়ে আসলো। নাবিল এদিক ওদিক মাকে খুঁজতে লাগলো আর কাঁদতে লাগল। আবিরও নাবিলের পিছন পিছন ছুটতে লাগলো।
নাবিল ও আবির দুই ভাই পাগলের মত সারা রাতভর নিজেদের মাকে খুঁজতে লাগল। এদিকে সুজাতা ও স্বর্ণা তাড়াতাড়ি থানায় গিয়ে পুলিশের সাহায্য চায়। চারদিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তখন রাহেলাকে পাওয়া গেলো না তখন হঠাৎ নাবিলের মনে পড়ে বাবার কবরের কথা। নাবিল তৎক্ষণাৎ আবিরকে নিয়ে বাবার কবরের কাছে চলে যায়, গিয়ে দেখে সেখানে তাদের মা বসে বসে কাঁদছে। নাবিল ও আবির দুজনে তাদের ভুলের জন্য মায়ের পা ধরে ক্ষমা চায়। নাবিল ও আবির রাহেলার পা ধরে অনেক কান্নাকাটি করে। রাহেলা ক্ষমা করে নাবিল ও আবিরকে বুকে টেনে নিল। নাবিল ও আবির রাহেলাক সাথে নিয়ে বাসায় ফিরে আসে।
বাসায় ফেরার পর স্বর্ণা ও সুজাতা দুজন রাহেলার কাছে নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলো। আর কোনদিন রাহেলাকে কষ্ট দিবেনা বলে প্রতিজ্ঞা করলো।
রাহাত দৌড়ে এসে রাহেলাকে জড়িয়ে ধরলো, জড়িয়ে ধরে বলল
-- দাদু তোমাকে যদি মা-বাবা আর কোনদিন কষ্ট দেয় আমিও বড় হয়ে তাদের অনেক কষ্ট দেবো।
-- না দাদু ভাই এসব কথা বলতে হয়না মা-বাবা হচ্ছে অনেক ভালোবাসা ও সম্মানের মানুষ তাদেরকে সবসময় সম্মান করবে তাদেরকে কখনো কষ্ট দিবে না।

রাহেলা সবাইকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো। নাবিল, আবির, সুজাতা ও স্বর্ণা অনুশোচনা করে এবং নিজেদের শুধরে নিবে বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলো। তারা ওয়াদা করলো আর কখনো মাকে কষ্ট দিবেনা।

আসুন সবাই মা-বাবা কে ভালোবাসি ও সর্বোচ্চ সম্মান দেই। মা-বাবা কখনো যেন কোন সন্তানের জন্য বোঝা না হয়।

সমাপ্ত।

(ভুলত্রুটি মার্জনীয়)

Bottom Ad [Post Page]