ডিস্টার্ব

লেখা: Najib Abdullah
বেশ কয়েদিন ধরে লক্ষ্য করছি তুলি কেমন যেন চুপচাপ থাকে।একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম , মুচকি হাসি দিয়ে বলেছিল " কিছুনা ভাইয়া।"

মেয়েলি অসুখ ভেবে আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি ।

লক্ষকরছিলাম সে নামাজও আদায় করে। মেয়েলি সমস্যা হলে নামাজ আদায় করার কথা না।

একদিন সন্ধ্যায় রুমে ডেকে নিয়ে গেলাম।

আমি ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে আছি। লক্ষ্য করলাম তুলি আমার পশে বসে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।

জিজ্ঞেস করলাম " কিছু বলবি ?"

তুলি মাথা নেড়ে জানাল , না।

জিজ্ঞেস করলাম " ছেলেটা কে ?"

ছোট বেলা থেকেই ডিটেক্টিভ টাইপের আমি , আর ডিটেক্টিভদের প্রথম অস্ত্র আন্দাজে ঢিল মারা।

তুলি ঝড়ের গতিতে মাথা উঠিয়ে , বলল " কি সব বলছ ভাইয়া , কিসের ছেলে ?"

বললাম "যার জন্য তুই মনমরা হয়ে আছিস।"

ল্যাপ্টপ ছেড়ে তুলির দিকে তাকিয়ে বললাম " যদিও আমি তোর বড় ভাই। কিন্তু আমিও এই যুগেরই । আমি চাইনা কমিউনিকেশনে গ্যাপের কারণে তুই নিজের কোন ক্ষতি করে ফেলিস। তোর মনে যদি কোন কিছু নিয়ে সংশয় থাকে তাহলে বলে ফেল। আমি আমার অবস্থান থেকে শতভাগ চেষ্টা করব। প্রয়োজনে তোর হয়ে বাবামায়ের সাথে কথা বলব। "

তুলি মাথা নিচু করে আছে।

বুঝলাম ও কিছু বলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওকে সময় দিলাম।

তুলি বলল " ভাইয়া , কোন ছেলের সাথে আমার কোন ধরণের সম্পর্ক নেই। ছেলেদের মধ্যে যাদের সাথে কথা বলি সবাই কলেজ ফ্রেন্ড। আর তুমি হয়ত লক্ষ করেছ আমি মোবাইলে কোন দিন লম্বা সময় কথা বলিনা। কারো সাথে সম্পর্কে থাকলে অবশ্যই কথা বলতাম। আর এই মুহূর্তে পড়াশোনাটাই আমার মেইন ফোকাস। "

তুলি যা বলছে সব সত্যি , ছাত্রী হিসাবে অনেক ভাল সে। আর তাকে মোবাইলে কথা বলতে তেমন দেখা যায়না।

জিজ্ঞেস করলাম " কেউ কি তোকে ডিস্ট্রাব করে ?"

তুলি চুপ করে আছে।

আবার জিজ্ঞেস করলাম " তাকে চিনিস ?"

তুলি মাথা নেড়ে জানাল সে চিনে না।

জিজ্ঞেস করলাম " এলাকার কেউ, নাকি কলেজের ?"

তুলি জানাল সে তার পরিচয় জানেনা এমনকি তাকে কোনদিন দেখেনাই।

জিজ্ঞেস করলাম " তাহলে ডিসটার্ব করে কিভাবে ?"

জানাল , মেসেঞ্জারে আর মোবাইলে।

একটু চিন্তিত হলাম। তুলিকে বিস্তারিত বলতে বললাম, কিভাবে শুরু হয়েছে।

তুলি কোন জড়তা না রেখে সব খুলে বলল।কিছুদিন যাবৎ একটা ছেলে তাকে মেসেঞ্জারে বিভিন্ন আজেবাজে মেসেজ দিয়ে ডিস্টার্ব করে। আর সব থেকে ভয়ানক ব্যাপার হল সে তুলির একটা ছবি এডিট করে হুমকি দিচ্ছে। টাকা না দিলে ইন্টার্নেটে ছেড়ে দিবে।

বললাম " তুই তো ফেইসবুকে ছবি আপলোড করিসনা , তোর ছবি কোথায় পেল ?"

তুলি জানাল এই ব্যাপারে সে কিছুই জানেনা।

জিজ্ঞেস করলাম" সে কি তোকে ছবি পাঠিয়েছে ?"

মাথা দিয়ে জানাল , হ্যা।

ছবিটা সম্পর্কে এখন জিজ্ঞেস না করলে হবেনা। তাই জিজ্ঞেস করলাম"ছবিটা কি আসলেই তোর ?"

সে মাথা নেড়ে জানাল, তারই ছবি।

বললাম "কোথাকার তোলা ছবি সেটা ?"

তুলি জানাল তার মনে নাই। অনেক আগের ছবি।

বললাম " চিন্তা করিস না , আমি দেখছি। আর তুই বই নিয়ে এই রুমে চলে আয়। আজ আমার রুমে পড়।"

সে উঠে চলে গেল। একটু পর বই নিয়ে আসল।

তুলির মোবাইলটা চাইলাম। সে হাত বাড়িয়ে দিল।

জিজ্ঞেস করলাম " নতুন কাভার কবে লাগিয়েছিস ?"

সে জানাল কয়েকদিন আগে।

জিজ্ঞেস করলাম আর কি কি চেইঞ্জ করেছে মোবাইলে।

জানাল , ডিসপ্লে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। রিপিয়ার করিয়েছে।

ওর মোবাইলটা ল্যাপটপের সাথে লাগিয়ে কিছুক্ষন কাজ করলাম।

জিজ্ঞেস করলাম " এক্সটার্নাল মেমোরি কার্ড ইউজ করে কিনা ?"

সে রুম থেকে গিয়ে নিয়ে আসল।

চেক করে দেখলাম কয়েকটা গান ছাড়া আর কিছু নেই।

ডাটা রিকোভারি সফ্টওয়ার দিয়ে কিছু ওল্ড ডাটা রিকভার করলাম।

কিছু ভিডিও গানের সাথে একটা ছবির ফোল্ডারও আছে। সেখানে তুলির বেশ কিছু ছবি। তুলিকে জিজ্ঞেস করলাম তাকে যে ছবি পাঠানো হয়েছে কোনটার সাথে মিল আছে।

কিছূক্ষন নজর বুলিয়ে একটা ছবির প্রতি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করল।

এমন একটা ছবি যেটা ক্যামেরার দিকে মুখ করে তোলা। সম্ভবত স্কুলের রেজিস্ট্রেশনের জন্য তুলা ছবি।

এই এঙ্গেলে তুলা ছবি অন্য ছবির সাথে এডজাস্ট করা অনেক ইজি।

কিছুক্ষন চিন্তা করে বললাম " তুই ওই ব্যাটারে বল কোন নাম্বারে টাকা পাঠাতে হবে ?"

তুলি বলল " টাকাই যদি দিবে তাহলে এতক্ষন কি করলে ?"

বললাম " তুই তার থেকে বিকাশ নাম্বার নে "

তুলি মেসেঞ্জারে মেসেজ দিতেই সে বিকাশ নাম্বার পাঠাল।

নাম্বারটা ট্রু কলারে চেক করলাম। কোন হদিস পাওয়া গেলনা।

বললাম " তাকে বল কাল সন্ধ্যায় টাকা পাঠাবি "

তুলি তাই করল। কিছুকক্ষন পর একটা মেসেজ আমাকে পড়ে শোনাল।

" কাল যদি টাকা না পাই তাহলে ছবি বাইরাল ( ভাইরাল ) করে দিব। "

তুলিকে কিছু ইন্সট্রাকশন দিয়ে আমি কিছু হাতের কাজ সেরে নিলাম।

পরদিন সকাল দশটার দিকে তুলিকে বললাম ওই নাম্বারে আবার মেসেজ দিতে এবং কমপক্ষে ১০ মিনিট কন্টিনিউ করতে।

তুলি তাই করল।

প্রায় আট মিনিট পর বললাম" কাজ হয়েগেছে। তুই কি , এমপি মার্কেট থেকে মোবাইল ঠিক করিয়েছিলি?"

তুলি জানাল ,হ্যা।

বললাম" তোর আসামি পেয়েগেছি। আমি বের হচ্ছি। "

রুম থেকে বের হয়ে পিয়াসকে ফোন দিলাম। বললাম আধা ঘন্টার মধ্যে যেন এমপি মার্কেটে আসে।

এক ঘন্টা পর পিয়াসকে নিয়ে ওই মোবাইল রিপিয়ার সেন্টারে গেলাম যেখানে তুলি মেবাইল ঠিক করিয়েছিল।

গিয়ে বললাম" আমার মোবাইলের কিছু ডাটা ডিলিট হয়েগেছে রিকভার করব, কত লাগবে।"

জানাল একদিন সময় লাগবে আর দুইশ টাকা লাগবে। মোবাইলটা ওর হাতে দিতেই চমকে উঠল। ব্যাপারটা ওর চেহারায় স্পষ্ট লক্ষ করা যাচ্ছিল।

মোবাইলটা আমারই ছিল কিন্তু ওয়াল পেপারে তুলির সেই ছবিটা ছিল।

মোবাইলটা রাখতে যাবে এমন সময় তার একটা কল আসল।

সে বলতেছিল, পাঁচ হাজারের একটাকা কম হলে মানতে পারবেনা। আর আজ সন্ধ্যার মধ্যেই টাকা চায় তার।

কলটা যে তুলি করেছে সেটা কনফার্ম। মোবাইলের দোকানে ঢুকার আগে তুলিকে বলেছিলাম যেন কল করে।

ছেলেটার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি। আমার মোবাইল দেখে বুজতে পেরেও সে তুলিকে ধমকি দিচ্ছে।

আমি বললাম " এই ধান্দা কত দিনের ?"

সে চমকে উঠে জিজ্ঞেস "করল কিসের ধান্দা ?"

পিয়াস তাকে তার কুকীর্তির কথা বলল। কিন্তু সে অসীকৃত জানাল। সে এরকম করেনাই। আর জিজ্ঞেস করল আমাদের কাছে কি প্রমান আছে।

বললাম তার মোবাইলের নাম্বার , কল হিস্ট্রি , আইপি এড্ড্রেস ইনবক্সড মেসেজ , কোন সফটওয়্যার দিয়ে ফটো এডিট করেছে তার ভার্সন সব আছে।
সে একটু ঘাবড়ে গেল। পরে সব স্বীকার করেছে।
পিয়াস ওর কানে ধরে একটা টান দিল। আইনের কয়েকটা ধারা বলে , জিজ্ঞেস করল " ঢুকিয়ে দেব হাজতে ?"
ছেলেটা পিয়াসের পায়ে ধরে ধরে অবস্থা।সকাল সকাল মার্কেটে তেমন মানুষ নেই। তারপরও কয়েকজন মানুষ জড় হচ্ছে দেখে চলে আসলাম। প্ৰতিশ্ৰুতি নিয়ে আসলাম জীবনেও যেন আর এমন না করে।
আর এও জানিয়ে আসলাম এখন থেকে সে সাইবার ট্রেকিংয়ে থাকবে। একটু এদিক সেদিক হলেই ডিরেক্ট জেলে।
অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো