Full width home advertisement

Post Page Advertisement [Top]

সত্য যুগের কোনও এক সময়ে মহাদেবের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দক্ষ রাজা বৃহস্পতি নামে এক যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। কন্যা সতী দেবী তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে 'যোগী' মহাদেবকে বিবাহ করায় দক্ষ ক্ষুব্ধ ছিলেন। দক্ষ মহাদেব ও সতী দেবী ছাড়া প্রায় সকল দেব-দেবীকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। মহাদেবের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সতী দেবী মহাদেবের অনুসারীদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

কিন্তু সতী দেবী আমন্ত্রিত অতিথি না হওয়ায় তাকে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। অধিকন্তু দক্ষ মহাদেবকে অপমান করেন। সতী দেবী তার স্বামীর প্রতি পিতার এ অপমান সহ্য করতে না পেরে যোগবলে আত্মাহুতি দেন।




শোকাহত মহাদেব রাগান্বিত হয়ে দক্ষর যজ্ঞ ভণ্ডুল করেন এবং সতী দেবীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। অন্যান্য দেবতা অনুরোধ করে এই নৃত্য থামান এবং বিষ্ণুদেব তার সুদর্শন চক্র দ্বারা সতী দেবীর মৃতদেহ ছেদন করেন। এতে সতী মাতার দেহখণ্ডসমূহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে এবং পবিত্র পীঠস্থান (শক্তিপীঠ) হিসেবে পরিচিতি পায়।

সকল শক্তিপীঠসমূহে শক্তিদেবী ভৈরবের সাথে অবস্থান করেন। শক্তিপীঠের সংখ্যা ৫১ টি।

"শক্তি" অর্থাৎ প্রত্যেক "স্থানে" পূজিত দেবী, যিনি দাক্ষায়ণী, দুর্গা বা পার্বতীর বিভিন্ন রূপ; "ভৈরব" অর্থাৎ ঐ দেবীর স্বামী (সঙ্গী), যারা প্রত্যেকেই শিবের বিভিন্ন অবতার (রূপ); "দেহ খণ্ড বা অলঙ্কার" অর্থাৎ সতী দেবীর শরীরের বিভিন্ন অংশ বা অলঙ্কার যা শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা ছেদনের পর সেই "স্থানে" পতিত হয়েছিল এবং মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ।





০১.  সুগন্ধা, শিকারপুর, গৌরনদী, সন্ধ্যা নদীর তীরে, বরিশাল শহর হতে ২০ কি.মি. দূরে, বাংলাদেশ : শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা ছেদনের পর দেবী দাক্ষায়ণী সতীর নাসিকা এই "স্থানে" পতিত হয়েছিল এবং সকল শক্তিপীঠ মতো এখানেও মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । পূজিত হন দেবী সুগন্ধা রুপে। পাশে পূজিত হয় মহেশ্বর শিবের অবতার রুপ ত্র্যম্বক নামে।


                       



০২. চন্দ্রনাথ মন্দির, চন্দ্রনাথ পর্বত শিখর, সীতাকুণ্ড স্টেশনের নিকট, চট্টগ্রাম জেলা, বাংলাদেশ : শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা ছেদনের পর দেবী দাক্ষায়ণী সতীর ডান হাত এই "স্থানে" পতিত হয়েছিল এবং সকল শক্তিপীঠ মতো এখানেও মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । পূজিত হন দেবী ভবানী রুপে। পাশে পূজিত হয় মহেশ্বর শিবের অবতার রুপ চন্দ্রশেখর নামে। এছাড়াও চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ উচু স্থান চন্দ্রনাথ  পাহাড়ের উপর রয়েছে চন্দ্রনাথ মন্দির,যা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক মনোমুগদ্ধকর পরিবেশে অবস্থিত।

০৩.  জয়ন্তীয়া, কালাজোড় গ্রাম, জয়ন্তীয়া থানা, সিলেট জেলা, বাংলাদেশ : শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা ছেদনের পর দেবী দাক্ষায়ণী বাম জঙ্ঘা  এই "স্থানে" পতিত হয়েছিল এবং সকল শক্তিপীঠ মতো এখানেও মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । পূজিত হন দেবী জয়ন্তী রুপে। পাশে পূজিত হয় মহেশ্বর শিবের অবতার রুপ ক্রমদীশ্বর নামে।


০৪. শ্রীশৈল, জৈনপুর গ্রাম, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট শহরের ৩ কি.মি. উত্তর-পূর্বে, বাংলাদেশ : শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা ছেদনের পর দেবী দাক্ষায়ণী গলা এই "স্থানে" পতিত হয়েছিল এবং সকল শক্তিপীঠ মতো এখানেও মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । পূজিত হন দেবী মহালক্ষ্মী রুপে। পাশে পূজিত হয় মহেশ্বর শিবের অবতার রুপ সম্বরানন্দ নামে।

০৫. ভবানীপুর, করতোয়া নদীর তীরে, শেরপুর উপজেলা হতে ২৮ কি.মি. দূরে, বগুড়া জেলা, বাংলাদেশ : শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা ছেদনের পর দেবী দাক্ষায়ণী বাম পায়ের নূপুর এই "স্থানে" পতিত হয়েছিল এবং সকল শক্তিপীঠ মতো এখানেও মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । পূজিত হন দেবী অপর্ণা রুপে। পাশে পূজিত হয় মহেশ্বর শিবের অবতার রুপ বামন নামে।


০৬.  যশোরেশ্বরী, ঈশ্বরীপুর, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা জেলা, বাংলাদেশ : শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা ছেদনের পর দেবী দাক্ষায়ণী হাতের তালু ও পায়ের পাতা এই "স্থানে" পতিত হয়েছিল এবং সকল শক্তিপীঠ মতো এখানেও মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । পূজিত হন দেবী যশোরেশ্বরী রুপে। পাশে পূজিত হয় মহেশ্বর শিবের অবতার রুপ চণ্ড নামে।

Bottom Ad [Post Page]