Full width home advertisement

Post Page Advertisement [Top]

সুমন আর সুন্দর দুই বন্ধু। সুমনের গ্রামের বাড়ি সুন্দরবনের পাশেই নাম সুমতিপুর আর সুন্দরের বাড়ি রাঙামাটির বালিয়াভাংচরে। গ্রামীণ-আধুনিকের সংমিশ্রণের সমাজে বেড়ে উঠা সহ দুই জন তথাকথিত শিক্ষায় শিক্ষিত যুবক। স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুমন মনোবিজ্ঞান আর সুন্দর পদার্থবিদ্যায় গ্রেজুয়েশন শেষ করে এখন চাকরির খোজে ব্যস্ত। সুন্দর নানাধরণের অলৈকিক ঘটনায় বিশ্বাসী, আর পাহাড়ি বিভিন্ন সংস্কার, ভয় তার মনে ছোট বেলা হতেই জায়গা করে নিয়েছে, কিন্তু সুন্দরের এখন লৌকিক আর অলৌকিকত্ব ঘটনা নিয়েই বেশি ভাবতে ভাল লাগে, এক সময় ভয় লাগলেও এখন প্রতিটি অলৌকিকতাকে সে বিজ্ঞানের আলোকে ভাবতে থাকে। আর সুমন সহজ সরল একজন মানুষ, সে একজন কম্পিউটার ইজ্ঞিনিয়ার হতে চাইলেও শিক্ষাব্যবস্থা নির্ধারন করে দেওয়া মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়ে সে খুবই আনন্দিত বোধ করে, সে কুসংস্কার মুক্ত সাহসী একজন মানুষ।

এই মাত্র ফোনে কল এল সুন্দরের কাছে, বন্ধুরা মিলে সুন্দরবনে বনভোজনে যাচ্ছে,  সুমনের যেহেতু গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করে সুন্দরবনের কিছু দূরে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে তাকে কল দিয়ে বলল সব, সেও রাজি সবার সাথে সুন্দরবনে বনভোজনে যেতে, ভার্চুয়াল মাধ্যমেই সিধান্ত হল সবাই হোটেলে না থেকে বনের উপকূলে খোলা জায়গায় তাবু টাঙ্গিয়ে থেকে উপভোগ করবে বনভোজনটি।

ঘনিয়ে এল সেই বনভোজনের দিন, সবাই মিলে রওনা দিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাত্রা- বাহনের মাধ্যমে সবাই পৌঁছে গেল জঙ্গলের পথেই, সাথে খাবার ও পানীয় সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় থাকা-খাওয়া সহ নিরাপত্তার ব্যবস্হাও আছে, ওরা থাকবে শুধুমাত্র একটি রাত, যেইদিন যাবে পরের দিনই বিকালে তারা চলে আসবে, তাই চিন্তারও কারণ নাই।

সবাই সুন্দরবনে যাওয়ার পথে থাকা হোটেল থেকে দুপুরের আহার সম্পন্ন করে হাঁটা শুরু করল, ওদের দলে মোট ১৩ জন রয়েছে আর রাইফেল হাতে ৩ জন নিরাপত্তা কর্মী ও একজন বাবুচি সহ ১৭ জন, সুতরাং তাদের ভয়ের কোন কারণও নাই।

বিকালের দিকে তারা পৌছালো সেই জঙ্গলের গহীনে,চারদিকে সবুজের সুন্দর মনোরম পরিবেশ, যেন মনকে হরণ করছে সৌন্দর্য। তাবু টাঙ্গালো, বাবুচি রান্নার সরজ্ঞাম গুছাইতে লাগল, সবার মধ্যে হইহুল্লর ভাব, সুমন আর সুন্দরও অন্যদের সাথে সেলফিতে ব্যস্ত।

রাতে ক্যাম্প ফায়ার সহ সবাইমিলে আড্ডা দেওয়ার পরিকল্পনা তো রয়েছেই, ছবি তোলার জন্য মনোরম জায়গা খুজে ও প্রকৃতির সৌন্দর্যরূপ দেখতে এক ফার্কে বেরিয়ে গেল সুমন আর সুন্দর। কিছুক্ষণ পর তাদের হঠাৎ মনে হল তারা তাদের তাবু থেকে বেশ দূরত্বে চলে এসেছে,  এখন বুঝাই মুশকিল হয়ে পড়েছে তাদের তাবু কোন দিকে। সুমন পকেটে হাত দিতেই বুঝল মোবাইল ফোন তাবুর মধ্যে তার ব্যাগে আর এখন তার হাতে আছে ক্যামেরা আর সুন্দরের ফোনে এতক্ষণ সেলফিতুলতে গিয়ে অনেক চার্জ শেষ মাত্র ১% চার্জ বাকি আছে, পাওয়ার ব্যাক আছে তার ব্যাগে আর তার ব্যাগ ও তাবুতে, তাও যেই জায়গায় চলে এসেছে তা উচু নিচু পাহাড়ি ভূমি হওয়ায় নেটওয়ার্ক দূর্বল। তবুও তাদের মনের সাহস তাদের ভীত করেনি। দেখতে দেখতেই ঘনিয়ে এল সন্ধ্যা, আজ পূর্ণিমারচাদেঁর আলোয় আলোকিত রয়েছে পথ, তাদের সৌভাগ্য যে তারা আসার পূর্বেই সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় তাদের পায়ের ছকগুলো সামান্যতম দেখা যাচ্ছে, দু জনেই পা চালাতে লাগল জোরে জোরে। অন্য বন্ধুদের কল আসতেই সুন্দরের ফোন অফ হয়ে গেল।

হঠাৎ অবাক হয়ে দুই জনই থমকে দাড়াল, তাদের মুখে কোন শব্দ নাই, চোখের পলক পড়ছে না, মূর্তির মতো স্থির হয়ে গেল।
তারা আসার পথেই দেখল তাদের অদূরে একটি খড়ের কুটির ( ঘর ), ভেতর থেকে মোমবাতির মতো প্রদীপের আলোয় আলোকিত দরজাও কুটিরটি, ঔ কুটিরটির ভেতর হতেই নাচার পায়ের শব্দের মতো অদ্ভুত আওয়াজ আসছে, তারা দেখল কুটিরের মধ্যে কোন রমণী নিত্য চলছে।

দুই জনই অলৈকিকতা ও কুসংস্কার বিশ্বাসী নয়, সুমন বলল যাওয়ার সময় এই কুটির তো দেখিনি চলো তো দেখি ওখানে কে থাকে, এগিয়ে গেল দুজনই কিন্তু তাদের মধ্যে ভয় জায়গা করে নিল, আরো এগিয়ে যেতে তাদের মনে হল পুরাতন হাজার বছর আগের কোন কুটির ও সংস্কৃতি এখানে বিদ্যমান। সুমন কুটিরের দরজায় আস্তে করে ধাক্কা দিতেই কুটিরের দরজা খুলে গেল, এমুহূর্তে সে পা বাড়িয়ে যেই কুটির ( ঘর)  টির মধ্যে ঢুকবে অমনি সুন্দর তাকে পিছন থেকে টান দিল, দুজনই পিছনে পড়ে জ্ঞান হারাল।

সকালে জ্ঞান ফিরতেই সুন্দর দেখল তারা জঙ্গলেই শুয়ে আছে, কই কোথাও কোন কুটির তো নেই! ভাবল সে কি কোন স্বপ্ন দেখেছে?

পাশে পড়ে থাকা সুমনকে ডাকল, সুমনের অবস্থা খুব খারাপ তার যেই পা কুটিরে প্রবেশ করিয়েছিল তা সম্পূর্ণ অবশ হয়ে গিয়েছে, ইত্যিমধ্যে তাদের দুই জনকে খুজতে খুজতে বন্ধুরা তাদের নিকটে আসার আওয়াজ শুনেই সুন্দরও আওয়াজ দিল, সুমনকে সবাই ধরাধরি করে চিকিৎসকের কাছে নিলেও তার পা টি ভাল হয়নি। আর সুন্দর,ঔ রাতের ঘটনাটি সে তার বন্ধুদের বিস্তারিত বর্ণনা করল না, যদিও সুমন বন্ধুদের বলার পর কেউ বিশ্বাস না করে হাসিঠাট্টা করতে লাগল। সুন্দর বিষাদগ্রস্ত হয়ে ফিরে গেল তার গ্রাম বালিয়াভাংচরে।

Bottom Ad [Post Page]