1.29.2020

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় জেনে নিন

#করোনা_ভাইরাস_ঝুঁকিতে_বাংলাদেশ
Krona virus

চীনজুড়ে ছড়িয়ে পড়া রহস্যময় করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকদিন ধরে নতুন এ ভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

গত ডিসেম্বরে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ৮৩০ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার।চীন আমাদের নিকটতম রাষ্ট্র তাই আমরাও ঝুঁকিতে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সচেতনতারবিকল্প নেই।


করোনা ভাইরাস কি?


করোনা ভাইরাস ভাইরাসেরই একটি পরিবারের সদস্য, যা শ্বাসযন্ত্রের প্রক্রিয়ায় সংক্রমণ ঘটায়। নতুনটিসহ সাতটি করোনা ভাইরাস রয়েছে। ডব্লিউএইচও অস্থায়ীভাবে নতুন এ ভাইরাসের নাম দিয়েছে ‘২০১৯-এনসিওভি’। ২০০২ ও ২০০৩ সালে মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের পেছনে সার্স (সেভার অ্যাকিউট রিসপাইরেটরি সিনড্রোম) করোনা ভাইরাস ছিল।






সার্সে প্রায় নয় হাজার মানুষ আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়। সার্স প্রাদুর্ভাবের এক দশক পর ২০১২ সালে মার্স (মিডল ইস্ট রিসপাইরেটরি সিনড্রোম) প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, যা এখনো চলমান। মার্স ভাইরাসে ২ হাজার ৪৯৪ জন আক্রান্ত হয়, এর মধ্যে মারা যায় ৮৫৮ জন, যার বেশির ভাগ ঘটনা ঘটে আরব উপদ্বীপে। উহানের নতুন করোনা ভাইরাস এ ভাইরাসগুলো থেকে আলাদা, তবে আগে কখনো এর প্রাদুর্ভাব মানুষের মধ্যে দেখা যায়নি।

করোনা ভাইরাস এর উৎপত্তি কোথায়?

সার্সের মতো চিন থেকেই উৎপত্তি। সাধারণ পশুর শরীরে এই ভাইরাস মেলে। তারপর মানুষের মধ্যে ছড়ায়। মানুষের থেকে মানুষের মধ্যে।






করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?

বাতাসে Air Droplet এর মাধ্যমে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে। হাচিঁ ও কাশির মাধ্যমে। ভাইরাস আছে এমন কিছু স্পর্শ করার পর হাত না ধুয়ে মুখ,চোখ ও নাকে হাত লাগালে। 
পয়নিস্কাশন এর মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এর লক্ষন কি?

সর্দি কাশি জ্বর মাথা ব্যাথা গলা ব্যাথা মারাত্মক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া শিশু,বৃদ্ধ ও কম রোগ-প্রতিরোধ সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিউমোনিয়া ও ব্রক্ষাইটিস।






করোনা ভাইরাস থেকে এর উপায়?

এই ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় নাই,তাই বিস্তার রোধ করাই প্রধান উপায়। মাঝে মাঝে সাবান পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া।

বিশেষ করে হাচিঁ-কাশি দেওয়া পর,রুগীর সেবা করার পর,খাবার তৈরি করার আগে ও পরে,টয়লেট করার পর এবং পশু-পাখি ও এদের মল স্পর্শ করার পর। হাত না ধুয়ে মুখ,চোখ ও নাক স্পর্শ না করা। হাচিঁ-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা। ঠাণ্ডা বা ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে না মিশা। মাংস,ডিম খুব ভাল ভাবে রান্না করে খাওয়া। বন্য জন্তু এবং গৃহপালিত পশুকে খালি হাতে স্পর্শ না করা। মুখে মাস্ক ব্যবহার করা। লক্ষন দেখা দিলে বাড়িতে বিশ্রাম নিয়ে প্রচুর পানি পান করতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আসুন নিজে সচেতন হই,অন্যকে সচেতন করি সুস্থ থাকি।

চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনার ভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে, মুরগির মাংস, সামুদ্রিক মাছ , পশুর মাংস থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকুন






ইতিমধ্যেই  ভারতে ১১ টি করোনা ভাইসে আক্রান্ত হবার ঘটনা সামনে  এসেছে। 

 গুরুতর ঠান্ডা, হাঁচি, শ্বাসকষ্টের সমস্যা, শ্বাস নিতে অসুবিধা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার  সাধারণ লক্ষণ।

 যেহেতু এটি ভাইরাস ... নিম্নলিখিত সাবধানতা অবলম্বন করুন

 1. ফুটন্ত জল পান করুন ।
 ২. আমিষ খাবার  বন্ধ করুন ।
 ৩. প্রতিরোধের জন্য ভিটামিন সি, জিঙ্ক, বি কমপ্লেক্স প্রতিদিন সেবন করুন। 
 4. কঠোরভাবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করুন





 ৫. গরম জলে তুলসী, আদা, গোলমরিচ, দারুচিনি  ফুটিয়ে চায়ের মতো পান করুন। 
 ৬. গরম গরম সবজির সুপ পান করুন ।
৭. বিদেশী পর্যটক পাশে গেলে অবশ্যই virus protection mask ব্যবহার করুন 
৮. বন্দর ও বিমানবন্দরে কর্মরত বেক্তি বর্গ অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন 
৯. রেস্তরাঁয় খাওয়া দেওয়া ও ফুটপাতের খাবার থেকে কিছুদিন বিরত থাকুন ।
১০. চা এর মতো চুমুক দিয়ে গরম জল পান করুন।
১১. জ্বর, সর্দি তে  অ্যান্টিবায়োটিকগুলি কাজ না করলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন
মেসেজ টি শেয়ার করে সকলকে সচেতন করুন 
ধন্যবাদ.






ইউনিসেফ এর মতে করোনা মোটামুটি বড়সড় একটি ভাইরাস। তবুও খালি চোখে দেখা যাবে না, ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ লাগবে এটাকে দেখতে!
এর আকারের কারনে বাজারে পাওয়া যায় এমন মাস্ক এটাকে প্রতিরোধ করতে স্বক্ষম হবে।
যেহেতু এই ভাইরাসটি বাতাসে নয়, মাটিতে অবস্থান করে, তাই এটা বাতাসে ছড়ায় না।
কোন ধাতব তলে বা বস্তুতে করোনা পড়লে প্রায় ১২ ঘন্টা জীবীত থাকতে পারে। তাই সাবান দিয়ে হাত ধুলেই যথেষ্ট হবে।
কাপড়ে এই ভাইরাসটি প্রায় ৯ ঘন্টা জীবীত থাকতে পারে। তাই, কাপড় ধুয়ে নিলে বা রোদে ২ ঘন্টা থাকলে এটি মারা যাবে।
হাতে বা ত্বকে এই ভাইরাসটি ১০ মিনিটের মতো জীবীত থাকতে পারে। তাই, এলকোহল মিশ্রিত জীবানু নাশক হাতে মেখে নিলেই জীবানুটি মারা যাবে।
করোনা গরম আবহাওয়ায় বাঁচে না। ৭০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা এটিকে মারতে পারে। কাজেই, ভাল না লাগলেও এখন বেশি বেশি গরম পানি পান করবেন, আইসক্রিম থেকে দূরত্ব বজায় রাখবেন।
লবন মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে গারগল করলে গলার মিউকাস পরিষ্কার হবার সাথে সাথে টনসিলের জীবানুসহ করোনাও দূর হবে, ফুসফুসে সংক্রমিত হবে না।
আর, নাকে-মুখে আঙ্গুল বা হাত দেবার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। কারন, মানব শরীরে জীবানু প্রবেশের সদর দরজা হলো নাক-মুখ-চোখ!
ধন্যবাদ!

Tags : করোনা ভাইরাস, করোনা ভাইরাস, Karona Virus 

#তথ্যসূত্রঃ collected

Related Posts

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় জেনে নিন
4/ 5
Oleh