12.05.2019

গল্প : মনোহরিনী পর্ব ৭

মনোহরিনী
লেখিকা : মেহরিমা সাবনাম অদ্রি 
পার্ট:৭
/
/

হিয়া : তুমি এখানে কি করছো?
মেঘ: দেখতেই পারছো দাঁড়িয়ে আছি।
হিয়া : তুমি আমাকে কোন সাহসে ফলো করছো? যাস্ট হেট ইউ। ঘৃনা করি তোমাকে।
মেঘ : আমি কেনো তোমাকে ফলো করতে যাবো আজাইরা? আলাইয়ো।
হিয়া : ইউউউ
হিয়া মেঘের দিকে তেড়ে যেতেই কিছু একটার সাথে হোচট খেয়ে পরে যেতে নেয় আর মেঘ ধরে ফেলে।
মেঘ ঃ হেই আস্তে আস্তে
হিয়া ঃ শাট আপ।
মেঘ ঃ ইউ শাট আপ বলেই হিয়াকে কোলে তুলে নিলো।
মেঘা মেঘের কোলেই হাত পা ছুটাছুটি করছে। মেঘ মেঘার মার খেয়ে মেঘাকে গাড়িতে বসিয়ে সিট বেল্ট লাগিয়ে দিয়ে মেঘার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে রইলো।
মেঘা ও ভয় পেয়ে গাল ফুলিয়ে বসে রইলো।
পরেরদিন,,,

মেঘা ঘুম থেকে ফ্রেস হয়ে নিচে নামতেই দেখে একজন ভদ্রলোক আর সাথে একজন ভদ্রমহিলা বসে আম্মুর সাথে কি যেনো কথা বলছে।
এরই মাঝে একটি মেয়ে ও এসে বসলো লোক দুটোর পাশে। মেয়েটির চেহারাটা দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু এরই মাঝে মেয়েটি ওনাদের আম্মু আব্বু বলে সম্বোধন করলেন,,, তাতে আর বুঝতে বাকি নেই, মেয়েটির বাবা মা এনারা।
বাট এরা এখানে কি করছে?
আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে এসব ভাবছি। আচমকা মেয়েটি দৌউরে এসে আভনিকে জড়িয়ে ধরলো।
আভনি মেয়েটির দিকে তাকাতেই চমকিয়ে উঠলো, অমনি মুখ ফোটে বেরিয়ে আসলো,,, নী নী নীরা তু তুমি?
নীরা : হ্যা আমি। সেদিন তোমার সাথে দেখা করতে এসেছিলাম,আমি আর ভাইয়া। বাট সেদিন আর দেখা হলো না অর আন্টি আমাদের ইনভাইট করেছে আজকে।
আভনির এবার ঘাবরাতে থাকলো,,, নীল আবার কোনো ঝামেলা পাকালো নাতো,,,
এসব ভাবতেই কেউ মিস্টি স্বরে ডাক দিলো আভনিকে।
নীলের আম্মু মিসেস নীতাশা চৌধুরী আভনিকে ডেকে বললো, মা এদিকে আসো তো।
আভনি ভয়ে ভয়ে ভদ্র মহিলার দিকে এগিয়ে গেলো।
আভনি কাছে যেতেই ভদ্রলোকটি ওকে বসতে বললেন।
আভনি মায়ের দিকে তাকালে ইশারায় ওকে চুপ থাকতে বললো।
নীলের মা : বাহ খুব মিস্টি তো দেখতে আমার মেয়েটা। তোমার নাম
আভনি স্লো ভয়েসে বললো,,, আভনি।
নীলের মা : বাহ খুব সুন্দর নাম আমার মেয়েটার। তুমি হয়তো আমাদের চিনো নি তাইনা? মিসেস নীতাশা চৌধুরী এক গাল হেসে বলে উঠলো,,, আমরা হলাম নীলের আব্বু, আম্মু। আর এই পাজিটা ও আমার মেয়ে তোমার সাথেই তো পড়ে নীরা।
নীল: উফফ আম্মু।
নীলের আম্মু আভনির মাথায় হাত রেখে বললো, আজ থেকে তুমিও আমার আরেকটা মেয়ে।
আভনিতো এদের কথা কিছুই বুঝতে পারছে না। কি বলছে এসব? তখনই মি.চৌধুরী বলে উঠলো,,, ওকে মা তুমি রুমে যাও। আমরা তোমার মামনির সাথে একটু কথা বলি,কেমন একগাল হেসে।
/
আভনি ও আর কিছু না ভেবে নীরাকে সাথে নিয়ে উপরে চলে গেলো। আভনি যেতেই মি.নীর্লভ চৌধুরী বলে উঠলো,,, মাশাআল্লাহ আভনি মাকে আমাদের বেশ লেগেছে।
আমরা আভনি মাকে খুব শীঘ্রই বউ করে নিয়ে যেতে চাই,,, যদি আপনি আপওি না করেন তাহলে।
আভনির আম্মু,,, দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলে, না ভাই ওরা দুজন দুজনকে ভালোবাসে বলেই আমি ওদের ভালোবাসার হাত বেঁধে দিচ্ছি। আর আভনি যদি নীলকে ভালোবেসে থাকে তাহলে আমার আর আপওি করে কি হবে?
/
আমার দুই টা না তিনটা না,,, একটা মাএ সন্তান সেটা হচ্ছে আভনি। ওর বাবা চলে যাওয়ার পর আমিই ওকে বাবার আদর মায়ের আদর দিয়ে বড় করেছি। ও কখনো ওর বাবার আদর পায়নি। কেননা ও ছোট থাকতেই ওর বাবা আমাদের রেখে চলে যায়। আপনারা প্লিজ আমার পাগলি মেয়েটাকে দেখে রাখবেন,,, বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলেন মিসেস তন্নিমা রহমান।
/
নীলের মা আলতো করে তন্নিমা রহমানকে জড়িয়ে ধরে বললেন,,, আমরা আভনিকে বউ করে না আমাদের মেয়ের মতো করে আগলে রাখবো বোন,,,, তুমি চিন্তা করো না। ওকে আমরা সবসময় আগলে রাখবো।
নীলের বাবা মি. নীর্লাভ চৌধুরী ও বললো,,, আমি ওকে আমার নিজের মেয়ের মতো করে গুছিয়ে রাখবো আপনি এতো ভাববেন নাতো ☺
আভনির আম্মু মাথা নেড়ে হ্যা বললো,,, হুুম আমার সেই বিশ্বাস টা আছে আপনাদের উপর।
নীলের মা,,,,ওকে. তাহলে সামনের শুক্রবার এসে আভনিকে রিং পরিয়ে যাবো এরপর নাহ হয় ঘরোয়াভাবে বিয়েটা সেরে রাখবো। দেন ওদের স্টার্ডি শেষ হলে আবার বড় করে সবাইকে ইনভাইট করে তখন নাহয় বিয়েটা দেবো....কি বলেন?
আভনির আম্মু মাথা ঝাকিয়ে বললো,,,আপনাদের যেভাবে ভালো হয় করুন,,, আমার কোনো অসুবিধে নেই।
নীলের আব্বু : আলহামদুলিল্লাহ বলেই অাভনিকে ডেকে সামনে আনলেন আর নীলের আম্মু নিজের হাত থেকে তাদের বংশের নিয়ম অনুযায়ী তার শাশুড়ীর হাতের তাকে দেয়া বালাটা খুলে আভনির হাতে পরিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেলো।
উনারা চলে যেতেই আভনি অবাক চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,,,, এ সবের মানে কি আম্মু?
আভনির আম্মু স্মৃত হেসে বললেন,,, তুই যেভাবে ভালো থাকতে চাস,,, আমি তোকে সেভাবেই থাকতে দেবো। কিন্তু তোর ভালো থাকা চাই রে আভনি বলেই মাথায় একটা চুমু একে চলে গেলেন। আর আভনি ড্যাব ড্যাব চোখে মায়ের চলে যাওযার দিকে তাকিয়ে রইলো।

Related Posts

গল্প : মনোহরিনী পর্ব ৭
4/ 5
Oleh