All SubjectsScience And Technology

রঙের রহস্য

রংয়ের রহস্য : আমাদের চোখ দিয়ে কিভাবে রং দেখি?
যদি হঠাৎ কালো হয়ে যায় লাল গোলাপ,  যদি সাদা হয়ে যায় গাছের পাতা, যদি লাল হয়ে যায় শুভ্রতার সাদা রঙ , তাহলে একটু ভাবুন তো কেমন লাগবে ? কি হবে ভালোবাসার সেই লাল গোলাপের, কি-ই বা হবে বর্তমান শুভ্রতার! ভাবতে গেলেই বিশাল গন্ডগোলের ঝামেলা। লাল গোলাপ হারাবে তার শুভ্রতার সৌন্দর্য সহ বর্তমান সকল আবেদন, গাছের পাতার বিমুগ্ধতা শুভ্রতা খুঁজতে গিয়ে মানুষ হবে বিফল। একটু রঙ বা বর্ণের পরিবর্তনের জন্য সকল বস্তুর মধ্যেই অনেক কিছু এলোমেলো হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি সঠিল বস্তুর তার নিজের – রঙে থাকাই বাঞ্চনীয়। আর এই রঙগুলো সঠিকভাবে দেখার জন্য আমাদের চোখ ও মস্তিষ্ক সবচেয়ে গুরুত্ববহ ভূমিকা পালন করে ।
প্রশ্ন : আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে রঙের অনুভূতি সৃষ্টি হয় কিভাবে? আমরা কি সব রঙ সম্পর্কে জানি?
যেকোন ধরণের রঙ পর্যবেক্ষণের কাজ পর্যবেক্ষণ পরবর্তী ক্রিয়া মানুষের চোখ ও মস্তিষ্ক একই সাথে করে । আমাদের মস্তিষ্ক ও চোখ একত্র হয়েই বিভিন্ন আলোক রশ্মিকে ট্রান্সলেট করার ফলেই নানা ধরণের রঙ আমরা বুঝতে সক্ষম হই। আমাদের চোখের ভেতরে থাকা সংবেদনশীল আলোক কোষ একাধিক স্নায়ুর মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করে থাকে মস্তিস্কে ।
অর্থাৎ এই সংবেদনশীল আলোক কোষগুলো একটি ডাকঘর ও আমাদের স্নায়ুগুলো মস্তিক্কে ডাকপিয়নের মত কাজ করে। ডাকপিয়ন যেমন কোন চিঠি নিয়ে আসলে আমাদের কাছে চিঠি পাবার পর আমাদের মধ্যে নানা ধরণের আবেগের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনি আলোক সংবেদী স্নায়ু আমাদের মস্তিস্কে বার্তা প্রেরণ করলে মস্তিস্ক তখন নানান ধরণের প্রসেসিং এর মাধ্যমে নানা ধরণের রঙের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
আমাদের চোখের মধ্যে যে Retina আছে, সেটা শত শত মিলিয়ন মিলিয়ন সংবেদনশীল আলোক কোষ দ্বারা বেস্টিত। এর আলোক সংবেদী কোষগুলোর মধ্যে কিছু কোষ হচ্ছে রড কোষ, আবার এই আলোক সংবেদী কোষগুলোর মধ্যে কিছু কোষ হচ্ছে কোণ কোষ। আমাদের এই আলোক সংবেদনশীল স্নায়ুমুখগুলো কোন কিছু দেখার পর মস্তিস্কে স্নায়ু উদ্দীপনার সৃষ্টি করে ও দর্শন স্নায়ু ( অপটিক নার্ভের ) মাধ্যমে মস্তিষ্কের Cartesck পাঠায়।
এভাবেই আসলে আমাদের চোখের মধ্য দিয়ে স্নায়ু উদ্দীপনায় মস্তিষ্কের মাঝে নানা ধরণের রঙের অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
এবার জানুন এক্সটা কিছু : কে প্রথম রঙ নিয়ে গবেষণা করেছিল?
বিজ্ঞানী স্যার নিউটন এর মাথায় apple পড়ার পর থেকে মাত্র একটি কারণেই উনি কত কিছু আবিষ্কার করে দুনিয়া দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ।
এই মহাকর্ষ আবিষ্কারের সাথেই বিজ্ঞানী স্যার নিউটন এর নাম সবচেয়ে বেশী উচ্চারিত হয়।
মজার ব্যাপার হল, বিজ্ঞানী স্যার নিউটন প্রথম আলো নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি আলো পর্যবেক্ষণ করে দেখেছিলেন যে, আলো কোন বস্তুর নির্দিষ্ট কোন বৈশিষ্ট্য নয়, আলো কোনো আলাদা বস্তুও নয়। এটা কি করে সম্ভব? তাহলে আমরা যে apple এর রং লাল দেখি, সেই Apple এর রং কি লাল নয়?
আসলে, বস্তুর তল বা পৃষ্টের উপরে আলো পড়লে যদি বস্তুটি আলোর মধ্যে বিদ্যমান সবটুকু রং শোষণ করে কোন একটা নির্দিষ্ট রং বস্তুটি শোষণ করতে না পারে তাহলে বস্তুটি সেই  রং টিকে বা আলোকে প্রতিফলিত করে দেয়, আর সেই আলো আমাদের চোখে প্রতিফলিত হলেই তাহলে আমরা বস্তুটিকে সেই নির্দিষ্ট রঙের দেখব।
সেই হিসাবে বলা যায়, Apple এর মাঝে কোন লাল রঙ নেই। Apple এর তল বা পৃষ্ঠে যখন আলো আপতিত হয়, তখন Apple এর তল বা পৃষ্ঠটি লাল ছাড়া অন্যান্য সকল রং শোষণ করে নেয়, এবং apple এর তল হতে লাল রংকে প্রতিফলিত করে। তাই apple কে আমরা লাল রঙের দেখি। আমরা আসলে আলোর প্রতিফলিত আলো দেখেই ভাবি যে apple টি লাল রংয়ের। তাঁর মানে দাড়ায়, আমরা আসলে প্রতিনিয়ত ভুল বুঝে ধোঁকা খাচ্ছি। কেননা apple তো লাল রঙের নয়, apple শুধুমাত্র লাল রংকে শোষণ করতে পারছেনা বলেই তা প্রতিফলিত হয়ে যাচ্ছে। আর আমরা তখন apple কে লাল রঙের দেখি।
রংয়ের ধরণ বা রংয়ের বাহারঃ
রঙ মূলত দু’ধরণের –
মৌলিক রং
এবং
যৌগিক রং
মৌলিক রং বলতে আমরা সবাই বুঝি- সবুজ, নীল, লাল । কেউ কেউ মৌলিক রংগুলোকে সংক্ষেপে “আসল” অর্থাৎ, আ =>> আসমানী (নীল), স =>> সবুজ,ল =>> লাল বলে থাকে।
তবে আপনি যদি একজন চিত্রশিল্পীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, তখন মৌলিক রঙ হিসেবে নীল, হলুদ লালকেই পাবেন। সেক্ষেত্রে তাদের জন্য সবুজ একটি যৌগিক রং। তবে সাধারণত আমরা যে স্ট্যান্ডার্ডে রংয়ের বিচার করি, তাতে সবুজ, লাল, নীলকে মৌলিক রং হিসেবে বলতে পারি।
আর এই সবুজ, নীল, লাল রংকে সমান বা প্রয়োজনীয় অনুপাতে মিশিয়ে আমরা সাদা রং পেতে পারি। আবার এই সবুজ, নীল, লাল তিনটি রংকে প্রয়োজনীয় অনুপাতে মিশিয়ে আলোক বর্ণালীর A to Z সবক’টি রংই পেতে পারি।
আর তিনটি মৌলিক রংগুলো মিশিয়ে বা রংগুলো হতে আমরা যেসব নতুন রং পাব, এগুলো সবগুলাই হচ্ছে যোগিক রং।
মোট রং কয়টি, আপনি জানেন কি ?
আপনার রং-য়ের পেন্সিল বক্স খুলে দেখলে হয়তো  ২৪টি রং বা ১২ টি বা ৬টি রং দেখতে পাবেন।
কিন্তু আসলেই সর্বমোট কয়টি রং আছে?
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, কোন একটি বাচ্চাকে আপনি জিজ্ঞেস করলে সর্বমোট কয়টি রং আছে সে হলুদ, কমলা, লাল, নীল ইত্যাদি আরও কয়েকটি রংয়ের নাম বলতে পারবে। আবার আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তাহলে হয়তো বাদামী, ফিরোজা, বেগুণী, এই ধরণের আরও কয়েকটা রংয়ের নাম বলতে পারবেন। কিন্তু আমাদের মানবচোখই প্রায় ১০ মিলিয়ন রংকে পৃথকভাবে সনাক্ত করতে সক্ষম । আমরা কেবল অল্প কিছু প্রকারের রং-য়ের নামকরণ করেছি।

প্রায় ১০ মিলিয়ন রংয়ের নাম দেওয়া তো সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞানীরা প্রত্যেক রং কে পৃথক করার জন্য রংগুলোকে সংখ্যার এবং code এর মাধ্যমে প্রকাশের ব্যবস্থা করেছেন। তাছাড়া রংয়ের আরও ভেরিয়েশনের জন্য কয়েকটি color model প্রবর্তন করেছেন। কেননা, শুধুমাত্র নীল, সবুজ, লাল (RGB Color) দিয়ে একটা নির্দিষ্ট রেঞ্জের রং বা সীমার রং তৈরি করা সম্ভব।
আমরা বর্তমানে যেসব প্রযুক্তি ( computer , television , pinter ইত্যাদি) ব্যবহার করি, তার জন্য আরও অনেক বেশি রংয়ের ভেরিয়েশনের প্রয়োজন হয়। তাই, CMY (Cyan, Magneta, Yellow) Color Model এর রংগুলোকে বিভিন্ন অনুপাতে মিশিয়ে আরও প্রচুর রঙ তৈরি করতে পারি। বিশেষ করে pinter এই color model ব্যবহার করে ছবি print করে।
এত কিছু তো বললাম, এখন বলুন তো, কালো এবং সাদা রং কে কি আসলে রং হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
বিশ্বাস করুন আর নাই বা করুন, পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে কালো আর সাদা রং বলতে কোন রং নেই। কালো হচ্ছে সকল রং-য়ের অনুপস্থিতি আর সাদা হচ্ছে সকল রং-য়ের সমষ্টি ।
Extra Tags : রং কি? রংয়ের রহস্য, রং
এরকম নিত্য নতুন তথ্য জানতে HelpBangla.com নিয়মিত ভিজিট করুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button