12.05.2019

গল্প : মনোহরিনী পর্ব ৬

মনোহরিনী 
লেখিকা : মেহরিমা সাবনাম অদ্রি 
পার্ট:৬
/
/
নীল এবার ডিসাইড করেই ফেললো আভনির বাসায় যাবে আজ।যা হবার হবে। নীল আর সাতপাঁচ না ভেবেই নীরার থেকে আভনির বাসার সকল খোঁজ খবর নিয়ে নীরাকে সাথে করে আভনির বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো। নীল নীরাকে সবটা বুঝিয়ে দিলো। যাতে কোনো সমস্যা না হয়।
/
নীল আর সাতপাঁচ না ভেবেই নীরাকে সাথে করে বেরিয়ে পরলো আভনির বাসার উদ্দেশ্যে।
আভনির বাসাটা দোতালা বাড়ির সামনে ফুলের বাগান। নানা রঙ্গের ফুল ফুটে আছে।
নীল আভনির বাসার গেটেের সামনে দাড়িয়ে আছে। নীরা কলিং বেল চাপতেই আভনির আম্মু দরজা খুলে দিলো।o

আভনির আম্মু চিনতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো কে তোমরা?
নীরা : আসসালামুআলাইকুম' আন্টি। আমরা আভনির ফ্রেন্ডস ☺।
আভনির আম্মু : অআলাইকুমআসসালাম। ভেতরে আসো তোমরা।
নীল : থাংক্স আন্টি।
আভনির আম্মু : কিন্তু? তোমাদের তো এর আগে কখনো দেখিনি। তোমরা কি আভনির সাথেই পড়ো?
নীরা : জ্বি জ্বি আন্টি। আমরা আভনির সাথেই পড়ি।
আভনির আম্মুঃতুমি না হয় আভনির সাথে পড়। কিন্তু ও কীভাবে আভনির সাথে পড়ে? ও তো তোমাদের থেকে অনেক সিনিয়র হবে হয়তো?
নীল ঃ হ্যা হ্যা আন্টি ।
নীরা : আন্টি ও আমার ভাইয়া নীল। এবার অর্নাস ৪র্থ বর্ষে পড়ে।
তমাশি : খালাম্মা এই লন চা।
আভনির আম্মুঃ হুম নীল আর নীরা কে দাউ ☺।
আভনির আম্মু : হুম তা হঠাৎ কি মনে করে আসলে তোমরা?
নীরা ঃ না আসলে আন্টি
নীল : আন্টি আভনির কাছে আমার একটা পেপারস আছে ওটা নিতে আসছি।
আভনির আম্মু, মিসিস রহমান হেসে বলে উঠলো, পেপারস নাকি চিঠিপএ 
নীরা ঃ ইয়েস রাইট আন্টি।আপনি কিভাবে জানলেন? নিশ্চয়ই আভনি বলে দিয়েছে 珞
নীরার কথা শুনে নীলের এখন যায় যায় অবস্থা ও বার বার নীরাকে ইশারা করছে চুপ করার জন্য বাট নীরার কোনো হুস ই নেই।
আভনির আম্মু :নীল সত্যিই কি? আভনির কাছে তোমার কোনো লেটার রেখেছো? নাকি অন্যকিছু (গম্ভীর হয়ে)
নীল : জ্বি জ্বি আন্টি।
আন্টি আভনিকে একটু ডাকুন না প্লিজ।
আভনির আম্মু : ওকে তোমরা থাকো আমি আসছি।
কিছুক্ষণ পর
আভনির আম্মু ঃ দেখোতো নীল এই লেটারটাই তোমার কিনা?
নীল তাকিয়েই হকচকিয়ে গেলো। জ্বি হ্যা আন্টি 
আভনির আম্মু : এটা তো তোমাকে অবশ্যই দেবো। তবে আজকে নয় কাল এসো।
নীরা মামনি?
নীরা ঃ হ্যা আন্টি চা খেতে খেতে 
আভনির আম্মু : কালকে তোমার আম্মু, আব্বুকে আমাদের বাসায় নিয়ে এসো তো সোনা। বলো আন্টি যেতে বলেছে। আর নীল কালকে লেটারটা আমি নীরার কাছে দিয়ে দেবো। চিন্তা করোনা।
নীরা ঃ অকে আন্টি। তাহলে আজকে আমরা চলে যাই। কালকে এসে নিয়ে যাবো।
আভনির আম্মুঃ অকে ভালো থেকো তাহলে ☺।
নীল আন্টিকে বলে চলে আসলো। এবার নীল চিন্তায় পরে গেলো। হঠাৎ বাবা, মাকে কেনো আসতে বললো, কিছুই ভেবে পাচ্ছে না নীল।
নীরা : আরে ভাইয়া চিন্তা করছো কেনো? আন্টি হয়তো আব্বু আম্মুর সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য যেতে বলেছে। আর লেটার টা হয়তো এই কারনেই দেয়নি, ভেবেছে এটা দিলে আমরা বাবা মাকে যদি না পাঠাই তাই।
নীল : বাট নীরু? ঐ টা লাভ লেটার। সো আল্লাহ জানে হিয়া কি সব লিখে রেখেছে ওটায়। উল্টো পাল্টা কিছু হলে তো। ওহ গড মেঘের জন্য মনে হচ্ছে আমরাই ফেসে যাবো ।
নীরা : চুপ করোতো দেখছো আন্টি আভনির সাথে কতো ফ্রি? আভনি সব কিছু মেবি আন্টির সাথে শেয়ার করে। আর এই লেটার টাও আন্টিকে দিয়ে দিয়েছে। বাহ।
নীল : চুপ করবি তুই আমার এখন টেনশন হচ্ছে।
নীরা ঃ যাই হোক আমি কিন্তু কালকে আব্বু আম্মু কে নিয়ে আভনিদের বাড়িতে যাবো।
নীল ঃ হ্যা যাবি তবে লেটার টা যানো আব্বু আম্মু না দেখে।
নীরা : অকে ।
এদিকে আভনি ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভেঙে চোখ কচলাতে কচলাতে জানালার পর্দা সরিয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাড়ায়।
আভনি প্রান ভরে প্রশ্বাস নিচ্ছে। রোদের ঝলক চোখে এসে পরতেই চোখ বন্ধ করে নিলো। আবার চোখ খুলতেই বাগানের দিকে চোখ যায় আভনির।
আভনির পুরো বাগান জুড়ে ফুল ফুটেছে আজ আভনি উওেজিত হয়ে উঠলো চারদিকে ফুল গুলো কিভাবে ফুটে আছে। পরিবেশটা বড্ড বেশিই সুন্দর লাগছে আভনির কাছে।
আভনি আলতো করে বাগানের উদ্দেশ্য নিচে নামলো। হলরুমে গিয়েই দেখে আভনির আম্মু টিভি দেখছে বসে।
ওনি আর চোখে একবার অাভনির দিকে তাকিয়ে আবার টিভি দেখায় মন দিলেন।
আভনিও পাশ কাটিয়ে বাগানের দিকে পা বাড়াতেই আভনিদের বাসার কাজের মেয়েটা দৌউড়ে আসলো।
তমাশি আভনিদের বাসায় থাকে বয়সে আভনির থেকে কিছুটা ছোট। তবে আভনি বাসায় থাকলে সারাক্ষণ আভনির সাথেই থাকে।
আভনি ঃ কিরে কি হয়েছে?
তমাশি : আফা আমনে কই আছিলেন? 
আভনি ঃ কেনো ঘুমাচ্ছিলাম।
তমাশি ঃ ওমা আমনের দুইডা ফেরেন্ড আইছিলো। কি যানো চিঠি নিতো আইছিলো নাকি কইলো। কিন্তু খালাম্মা হে গোরে সাফ সাফ কইছে, চিঠি কাইলকা দিবো আর হেগো আব্বা আম্মারে নিয়া কালকা আইতে কইছে, এরফরে চা নাস্তা দিছি খাইয়া গেছেগা।
আভনি ঃ মানে কি বলছিস এসব কোন ফ্রেন্ড আসলো আবার? আমাকে ডাকিস নি কেনো?
তমাশি : ডাকতে কইছিলো কিন্তু খালাম্মা তো ডাকতে দিলো না।
ওহ আচ্ছা।
আভনি এবার চিন্তায় পরে গেলো কে হতে পারে। নীল নয়তো আবার?
আম্মুকে ও তো কিছু জিজ্ঞেস করা যাবে না। আভনি কিছু না ভেবে রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে খেয়ে নিলো।
এদিকে হিয়া নদীর ধারে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। কেননা এটা তার ছোট বেলার অভ্যেস যখনই মন খারাপ হয় তখনই নদীর ধারে এসে চুপচাপ বসে থাকতো। আজও এর ব্যতিএম হয়নি।
হঠাৎ পেছন থেকে কেউ কাধে হাত রাখলো।
হিয়া চমকে পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখে মেঘ দু পকেটে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে।
হিয়া : তুমিই?
মেঘ: হ্যা আমিই তো। 
হিয়া : তুমি এখানে কি করছো?
মেঘ: দেখতেই পারছো দাঁড়িয়ে আছি।
হিয়া : তুমি আমাকে কোন সাহসে ফলো করছো? যাস্ট হেট ইউ। ঘৃনা করি তোমাকে।
মেঘ : আমি কেনো তোমাকে ফলো করতে যাবো আজাইরা? আলাইয়ো।
হিয়া : ইউউউ
হিয়া মেঘের দিকে তেড়ে যেতেই কিছু একটার সাথে হোচট খেয়ে পরে যেতে নেয় আর মেঘ ধরে ফেলে।
মেঘ ঃ হেই আস্তে আস্তে
হিয়া ঃ শাট আপ।
মেঘ ঃ ইউ শাট আপ বলেই হিয়াকে কোলে তুলে নিলো।
to be continue.........

Related Posts

গল্প : মনোহরিনী পর্ব ৬
4/ 5
Oleh