11.17.2019

মনোহরিনী পর্ব ৫

মনোহরিনী পর্ব ৫
লেখিকা : মেহরিমা সাবনাম অদ্রি
আভনি সেই কখন থেকে কোলবালিশে মুখ গুজে পরে পরে ঘুমাচ্ছে। হঠাৎ ঘুম থেকে চমকে উঠে বসলো। এসি থাকা সও্বেও থরথর করে ঘামছে আভনি। তারাহুরো করে বালিশ উঁচু করে দেখে নীলের চিঠি টা নেই। কি ব্যাপার এখানেই তো ছিলো। কোথায় গেলো তাহলে?
আভনি মনে করলো সকালে তো আভনি বিছানা গুছিয়ে রেখে যায় নি। তাহলে?
নিশ্চয়ই আম্মু বিছানা গুছাতে গিয়ে চিঠিটা পরে নিয়েছে। ভয়ে ডুকরে উঠলো আভনি। এসব ভাবছে আর পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজছে। আচমকা আম্মু পেছন থেকে বলে উঠলো!!
আম্মু :এটা খুঁজছিস?

আভনি পেছনে তাকিয়ে দেখে আম্মু চিঠিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বলার আগেই আম্মু বলতে শুরু করলো,
আম্মু :এত নিচে নেমে গেছিস তুই? ভেতরে ভেতরে এতকিছু করে বেরাচ্ছিস? তোর ছোটবেলা থেকে তোর বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আমি তোকে এতোকষ্ট করে মানুষ করেছি। কত গর্বছিলো তোকে নিয়ে আমার। আর তুই তার এই প্রতিদান দিলি?  ভেবেছিলাম তোকে একদিন অনেক বড় করবো আর তুই ছিহ আমার ঘৃণা হচ্ছে তোর জন্য।
আভনি :আম্মু আমি কিছু করিনি বিশ্বাস করো।
আম্মু :ওহ তাই? তাহলে এই চিঠির মানে কি? কেনো তুই এতোদিন আমাকে বলিসনি?  এই ছেলের সাথে তোর এতো গভীর সম্পর্ক আছে?
আভনি :না আম্মু সত্যি বলছি এই ছেলের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমিও কিছুই বুঝতে পারছি না।(কেঁদে কেঁদে)
আম্মু :ভালোবেসে কেউ সুখি হয় না অাভনি। এই দেখ আমাকে আমি ভালোবেসে কতটা সুখী। (কাঁদতে কাঁদতে) 
এতোগভীর ভালোবাসা ছিলো আমাদের। আর সেই ভালোবাসার প্রদীপ তুই। কিন্তু দেখ!সেই দুজনের তৈরি প্রদীপ আজ এক হাতে মিটি মিটি জ্বলে আভনি তুই কি আমাকে দেখে এতোবছর ধরে কিছুই বুঝিস নি?  (অভাক হয়ে)।
আভনি মাথা নিচু করে কাঁদতেছে।
আম্মু : আজকের পর থেকে আমি আর তোর কোনো ব্যাপারে কথা বলবো না। আর ভাবিস না আমি আর  অন্য কারোর মতো তোকে ফেলে যাবো না। কিন্তু আজকে থেকে ভাববো আমার কেউ নেই। বলেই কাদতে কাঁদতে রুম থেকে বের হয়ে চলে গেলেন।
আভনি : আম্মু প্লিজ আমার কথাটা তো শুনো আম্মুইইই।
আভনি দুহাত দিয়ে মাথা চেপে বসে আছে। এ মুহূর্তে আভনি কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। তবে এই মুহূর্তে আম্মুকে বেসি প্রেশার দেয়া যাবে না। আম্মু যা বলছে বলুক পরে ঠান্ডা মাথায় বুঝালেই বুঝবে।
এদিকে
মেঘ নীলকে ফোন দিয়ে,
নীল:হ্যা বল মেঘ। আরে তুই কি বলছিস?কেনো কি হয়ছে?
মেঘ :নীল মিহু আমাকে অপমান করে সবার সামনে থাপ্পড় মেরে যাতা অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছে। ওর আমাকে ভালোবাসে না নীল।
নীল : কেনো তুই আবার কি করেছিস?  ও তো আমাকে বলেছিলো, তোকে খুব ভালোবাসে মিহু।
মেঘ :জানিনা নীল ও বার বার বলছিলো, আমি নাকি ওর কথা রাখিনি, আমি নাকি ওকে ঠকিয়েছি,? আমি নাকি ওর সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছি? কিন্তু আমি কিভাবে কি করলাম?  কিছুইতো বুঝতে পারছি না নীল।
নীল :আমার মনে হচ্ছে মিহুর সব কিছুর  অ্যান্সার মিহুর লাভলেটার থেকেই পাওয়া যাবে।
মেঘ : নীল আমি মিহু না পেলে  বাঁচবো না আমি এ দেশ ছেড়েই চলে যাবো আবার।
নীল :নাআআা মেঘ নাআাাা। কিছু হবে না ভাই তুই কোনো চিন্তা করিস না। আমি সব ঠিক করে দেবো। তুই ভাবিস না আমি আছি তো। বাই এখন রাখছি।
নীল ফোন রেখে ব্যস্ত হয়ে পরলো। না যেভাবেই হোক মিহুর লাভলেটার টা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই মেঘ আর মিহুর সব সমস্যা সলভ হয়ে যাবে।
নীল এবার ডিসাইড করেই ফেললো আভনির বাসায় যাবে আজ।যা হবার হবে। নীল আর সাতপাঁচ না ভেবেই  নীরার থেকে আভনির বাসার সকল খোঁজ খবর  নিয়ে  নীরাকে সাথে করে আভনির বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো। নীল নীরাকে সবটা বুঝিয়ে দিলো। যাতে কোনো সমস্যা না হয় ।
To be continue Part....
(নেক্সট পর্বে হবে ধামাক্কা -সেই  পযন্ত জানতে হলে সবাই সাথেই থাকুন -কোথাও যাবেন না গেলে মিস)

Related Posts

মনোহরিনী পর্ব ৫
4/ 5
Oleh